সোহেল নওরোজ
সাঁঝসকালে দরজা খুলেই ফারুক মামাকে দেখে যথেষ্ট বিরক্ত হলো নাইমা। সময়-অসময় নেই কোত্থেকে যে তিনি উদয় হন আল্লাহমালুম! পানের ব্যবসায় নামার পর এ বাড়িতে মামার যাতায়াত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। হাটের দিন খুব ভোরে ট্রাকে পান তুলে দিয়ে সোজা এখানে এসে হাজির হন। ‘কেমন আছিস রে, কাঁচকি?’ চোয়াল ভাঙা গাল বাঁকা করে বিশ্রী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন। রাগে নাইমার গা জ্বালা করে উঠলো। বহুবার বারণ করা সত্ত্বেও মামা তাকে ‘কাঁচকি’ বলে ডাকে। মার মুখে শোনা, তার জন্মের দিন বাড়িতে কাঁচকি মাছ রান্না হয়েছিল। তাছাড়া মামার ভাষ্য, সে নাকি ছোটবেলায় কানের কাছে ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে তাকে অতিষ্ট করে তুলতো। তখন থেকে এ জঘন্য নামটি মামার মুখে মোটামুটি স্থায়ী হয়ে গেছে। নিতান্ত অনিচ্ছায় ‘ভালো’ বলে দরজা ছেড়ে নিজের ঘরে ঢুকলো নাইমা। রুটিন মাফিক মামা এখন সোফায় হেলান দিয়ে কিছুণ ঝিঁমুবে। তারপর মুখ হাঁ করে ঘুমিয়ে যাবে। বাবা মর্নিংওয়াক থেকে ফিরে ডাকাডাকি না করা পর্যন্ত উঠবে না।
জেএসসি পরীা সন্নিকটে। নাইমা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে আজ জ্যামিতি অংশ শেষ করেই ছাড়বে। মা রান্নাঘরে নাশতা তৈরিতে ব্যস্ত। এ সুযোগে মামাকে একটু হেনস্তা করলে মন্দ হয় না। মামা বেশ সাহসী। অন্তত চলনে বলনে তাই মনে হয়। কিš' আরশোলা ভীতি প্রচন্ড। নোংরা এবং কুৎসিত এই অষ্টাপদী পতঙ্গ স"ষ্টির পেছনে তিনি নাকি কোনো কারণ খুঁজে পান না! তেলাপোকা দেখামাত্র গা গুলিয়ে যায়। ভয়ে অ¯ি'র হয়ে বিকট চিৎকার দিয়ে উঠেন। মানুষের অনেক রকম ভীতির কথা সে বইতে পড়েছে। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ফোবিয়া’। তেলাপোকার ভয়কে তেমনি ‘ক্যাটসারিওফোবিয়া’ বলে। ফারুক মামার ক্যাটসারিওফোবিয়া যে অতি উচ্চমাত্রার, সে বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। ভাগ্যিস নাইমার এ ধরণের কোনো ফোবিয়া নেই! থাকলে হয়তো তার আরেকটা নোংরা নাম জুটে যেত!
গতকালই স্টোররুমে আরশোলা মারার বিষ ছিটানো হয়েছে। সন্তর্পণে স্টোররুমে ঢুকে মেঝেতে পড়ে থাকা বেশ কয়েকটা আরশোলা পলিব্যাগে ভরে নিঃশবব্দে মামার মাথার কাছে রেখে এল। তিনি জাগার পর নিশ্চয় এলাহি কান্ড ঘটবে। মামাকে শায়েস্তা করার উত্তেজনায় তার শরীর কেঁপে উঠলো। পড়ার টেবিলে বসে নাইমা সে মহেন্দ্রণের অপো করতে লাগল। খানিকবাদে বাবার গলার আওয়াজ শোনা গেল। কিন্তু মামার কোনো উচ্চবাচ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কি ভয়ে জ্ঞান হারালেন! এখন কী হবে? অকস্মাৎ নাইমার দুশ্চিন্তায় জল ঢেলে আরশোলাসমেত পলিব্যাগ হাতে মামা ঢুকলেন। ‘ভয়-ই যখন দেখাবি তখন একটু কষ্ট করে জ্যান্ত তেলাপোকা জোগাড় করতিস। এগুলো তো মরে সিটকায়ে আছে। মরা তেলাপোকা দেখে আমাকে ভয় পেতে দেখেছিস? এমনি কি আর তোকে ‘কাঁচকি’ নামে ডাকি!’
মামার কথা শুনে আর নিজের অপরিণত বুদ্ধির কথা ভেবে নাইমার তো আক্কেলগুড়ুম! মামা কি তবে আরশোলা দেখে ভয়ের ভান করেন? সত্যিই তো, তার মতো ছোট মেয়ে তেলাপোকা দেখে ভয় না পেলে, প্রায় মাঝবয়সী ফারুক মামার সে ভীতি থাকবে কেন?
তবু কিছু মানুষের তো ঠিকই ক্যাটসারিওফোবিয়া থাকে। মানুষের চরিত্র কত বিচিত্রই না হতে পারে, ভেবে কূল পায় না নাইমা।
সাঁঝসকালে দরজা খুলেই ফারুক মামাকে দেখে যথেষ্ট বিরক্ত হলো নাইমা। সময়-অসময় নেই কোত্থেকে যে তিনি উদয় হন আল্লাহমালুম! পানের ব্যবসায় নামার পর এ বাড়িতে মামার যাতায়াত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। হাটের দিন খুব ভোরে ট্রাকে পান তুলে দিয়ে সোজা এখানে এসে হাজির হন। ‘কেমন আছিস রে, কাঁচকি?’ চোয়াল ভাঙা গাল বাঁকা করে বিশ্রী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন। রাগে নাইমার গা জ্বালা করে উঠলো। বহুবার বারণ করা সত্ত্বেও মামা তাকে ‘কাঁচকি’ বলে ডাকে। মার মুখে শোনা, তার জন্মের দিন বাড়িতে কাঁচকি মাছ রান্না হয়েছিল। তাছাড়া মামার ভাষ্য, সে নাকি ছোটবেলায় কানের কাছে ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে তাকে অতিষ্ট করে তুলতো। তখন থেকে এ জঘন্য নামটি মামার মুখে মোটামুটি স্থায়ী হয়ে গেছে। নিতান্ত অনিচ্ছায় ‘ভালো’ বলে দরজা ছেড়ে নিজের ঘরে ঢুকলো নাইমা। রুটিন মাফিক মামা এখন সোফায় হেলান দিয়ে কিছুণ ঝিঁমুবে। তারপর মুখ হাঁ করে ঘুমিয়ে যাবে। বাবা মর্নিংওয়াক থেকে ফিরে ডাকাডাকি না করা পর্যন্ত উঠবে না।
জেএসসি পরীা সন্নিকটে। নাইমা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে আজ জ্যামিতি অংশ শেষ করেই ছাড়বে। মা রান্নাঘরে নাশতা তৈরিতে ব্যস্ত। এ সুযোগে মামাকে একটু হেনস্তা করলে মন্দ হয় না। মামা বেশ সাহসী। অন্তত চলনে বলনে তাই মনে হয়। কিš' আরশোলা ভীতি প্রচন্ড। নোংরা এবং কুৎসিত এই অষ্টাপদী পতঙ্গ স"ষ্টির পেছনে তিনি নাকি কোনো কারণ খুঁজে পান না! তেলাপোকা দেখামাত্র গা গুলিয়ে যায়। ভয়ে অ¯ি'র হয়ে বিকট চিৎকার দিয়ে উঠেন। মানুষের অনেক রকম ভীতির কথা সে বইতে পড়েছে। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ফোবিয়া’। তেলাপোকার ভয়কে তেমনি ‘ক্যাটসারিওফোবিয়া’ বলে। ফারুক মামার ক্যাটসারিওফোবিয়া যে অতি উচ্চমাত্রার, সে বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। ভাগ্যিস নাইমার এ ধরণের কোনো ফোবিয়া নেই! থাকলে হয়তো তার আরেকটা নোংরা নাম জুটে যেত!
গতকালই স্টোররুমে আরশোলা মারার বিষ ছিটানো হয়েছে। সন্তর্পণে স্টোররুমে ঢুকে মেঝেতে পড়ে থাকা বেশ কয়েকটা আরশোলা পলিব্যাগে ভরে নিঃশবব্দে মামার মাথার কাছে রেখে এল। তিনি জাগার পর নিশ্চয় এলাহি কান্ড ঘটবে। মামাকে শায়েস্তা করার উত্তেজনায় তার শরীর কেঁপে উঠলো। পড়ার টেবিলে বসে নাইমা সে মহেন্দ্রণের অপো করতে লাগল। খানিকবাদে বাবার গলার আওয়াজ শোনা গেল। কিন্তু মামার কোনো উচ্চবাচ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কি ভয়ে জ্ঞান হারালেন! এখন কী হবে? অকস্মাৎ নাইমার দুশ্চিন্তায় জল ঢেলে আরশোলাসমেত পলিব্যাগ হাতে মামা ঢুকলেন। ‘ভয়-ই যখন দেখাবি তখন একটু কষ্ট করে জ্যান্ত তেলাপোকা জোগাড় করতিস। এগুলো তো মরে সিটকায়ে আছে। মরা তেলাপোকা দেখে আমাকে ভয় পেতে দেখেছিস? এমনি কি আর তোকে ‘কাঁচকি’ নামে ডাকি!’
মামার কথা শুনে আর নিজের অপরিণত বুদ্ধির কথা ভেবে নাইমার তো আক্কেলগুড়ুম! মামা কি তবে আরশোলা দেখে ভয়ের ভান করেন? সত্যিই তো, তার মতো ছোট মেয়ে তেলাপোকা দেখে ভয় না পেলে, প্রায় মাঝবয়সী ফারুক মামার সে ভীতি থাকবে কেন?
তবু কিছু মানুষের তো ঠিকই ক্যাটসারিওফোবিয়া থাকে। মানুষের চরিত্র কত বিচিত্রই না হতে পারে, ভেবে কূল পায় না নাইমা।